ময়মনসিংহের ভালুকায় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা চালিয়ে কে.এম সাদেক হোসেন (৫৩) নামে এক শিক্ষককে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এ সময় শিক্ষকের স্ত্রীকেও মারধর করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় এবং গাছপালা কেটে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে অভিযুক্তরা। আহত শিক্ষক বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছে।
আহত শিক্ষক কে.এম সাদেক হোসেন উপজেলার বড়চালা হুসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলার পশ্চিম ঝালপাজা এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিন খানের ছেলে। এ ঘটনায় (২ নভেম্বর) সোমবার ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ভালুকা মডেল থানায় মামলা করেছেন আহত শিক্ষকের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম খান। গত ৩১ অক্টোবর দুপুরে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম ঝালপাজা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন কে এম শান্ত মিয়া (২৭), মো. ফরিদুল ইসলাম খান (৫৮), মোছা. শিরিনা আক্তার (৫০), এমদাদুল হক খান (৪৮), মো. হারুনুর রশিদ (৪৩) ও মোছা. রিয়া আক্তার (২৩)। তাঁরা সবাই হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম ঝালপাজা এলাকার বাসিন্দা। এবং মোছা. শিরিনা আক্তার ভালুকা উপজেলা জাতীয়তাবাী মহিলাদের নেত্রী।
জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পূর্দাব পরিক্ষিত, কুড়াল, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষক কে.এম সাদেক হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে এ সময় শিক্ষক সাদেক ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে অকাথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করেন। কেন গালিগালাজ করছে এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ওই শিক্ষক দম্পতির উপর হামলা, মারধোর করে শিক্ষকে একটি ভেঙে গুরুতর আহত করেন এসময় মারধরে শিক্ষকের স্ত্রী জেসমিন আক্তারও আহত হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে বিরোধে বাসায় প্রবেশ করে তার বড় ভাই ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে অকাথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং মারধোর শুরু করে একপর্যায়ে শান্ত মিয়া "দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য সাদেকের মাথায় আঘাত করে তিনি ডান হাত দিয়ে তা প্রতিহত করলে সেই আঘাত তাঁর ডান হাতের কনুইয়ের নিচে লেগে হাড় ভেঙে যায়। এ ছাড়া জেসমিন আক্তারের গলায় থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় এবং অভিযুক্তরা গাছপালা কেটে আরও অন্তত ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন এবং কাপড়চোপড় ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানির করেন। পরে তাদের ডাক চিৎকারে আসপাশের লোক এগিয়ে আসতে থাকলে অভিযুক্তরা দম্পতিকে খুনজখম করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে আহত সাদেক ও জেসমিনকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সাদেকের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’