মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

মুন্সীগঞ্জে গজারিয়ার মেঘনায় ডাকাত আতঙ্ক: মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

Reporter Name / ১১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
মুন্সীগঞ্জে গজারিয়ার মেঘনায় ডাকাত আতঙ্ক: মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা দিয়ে চলাচলকারী নৌযান থেকে ব্যবসায়ীদের মালামাল লুট করতে গড়ে উঠেছে সঙ্ঘবদ্ধ কয়েকটি নৌ ডাকাত চক্র। পাশের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ঝাউচর গ্রামের বাসিন্দা হাজী ইকবাল ও শাহ আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত এসব চক্রের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে নৌযান শ্রমিকদের জিম্মি করে মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়ে যায়।এসব ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

খবর নিয়ে জানা যায়, গজারিয়ার তেতৈতলা পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কতৃপক্ষের(বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি শুল্ক আদায় পয়েন্ট রয়েছে।মেঘনা নদীতে চলাচলকারী অনেক নৌযান এই শুল্ক আদায় পয়েন্ট দিয়ে মালামাল ওঠানো নামানোর কাজ করে।অন্য দিকে নদীর এই অংশে বিভিন্ন কোম্পানির তেল, চিনি,আটা,ময়দাসহ বিভিন্ন ভোগ্য পণ্য উৎপাদনের কারখানা রয়েছে।এসব কারখানা থেকে ভোগ্যপণ্য সংগ্রহ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা নদীপথে ছুটে আসেন এখানে। সম্প্রতি নদীর এই অংশে আশঙ্কাজনকহারে পণ্যবাহী নৌযান ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।গেল অক্টোবর মাসে এরকম দু’টি ঘটনা ঘটে-নৌযান শ্রমিকদের জিম্মি করে প্রায় আড়াই কোটি টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সঙ্ঘবদ্ধ নৌ ডাকাত দল।স্থানীয়দের তৎপরতায় তারা দু’বার সফল না হলেও সম্প্রতি তাদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত সংশ্লিষ্ট সবাই। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,সঙ্ঘবদ্ধ এই নৌ ডাকাত চক্রের নেপথ্যে রয়েছে সোনারগাঁও উপজেলার ঝাউচর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে হাজী মোহাম্মদ ইকবাল। গজারিয়া উপজেলার বড় রায়পাড়া এলাকায় তার মালিকানায় একটি ডকইয়ার্ড রয়েছে।ডকইয়ার্ড ব্যবসার আড়ালে নদী থেকে ব্যবসায়ীদের মালামাল চুরি করাই তার প্রধান কাজ। আড়ালে থেকে তিনি চক্রের কোনো সদস্য আটক হলে তাকে ছাড়িয়ে আনেন এবং পুলিশি ঝামেলাসহ সব কিছু তদারকি করেন।সূত্রের খবর চক্রের দ্বিতীয় স্তরে কাজ করে হাজী ইকবালের বন্ধু শাহ আলী ও মোহাম্মদ আলী।চক্রের তৃতীয় স্তরে রয়েছে হাবিব উল্লাহ, রফিকসহ আরো কয়েকজন। তাদের কাজ মালামাল ভর্তি নৌযানের খবর পৌঁছে দেয়া এবং ডাকাতির কাজে সহযোগিতা করা।তারা খবর পৌঁছে দেয়ার পর হাজী ইকবাল ও শাহ আলী দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাত ভাড়া করে আনে।ভাড়াটে ডাকাতরা কিভাবে ডাকাতি করবে তা ঠিক করে দেয় শাহ আলী। ভুক্তভোগী ট্রলার মালিক হজরত আলী ফকির বলেন, মেঘনাঘাট এলাকার বিভিন্ন কোম্পানি থেকে তারা মালামাল সংগ্রহ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেন।একেক বারের চালানে তারা দেড় থেকে দুই কোটি টাকার টাকার মালামাল নেন। সম্প্রতি দেড় কোটি টাকার মালামালসহ তার ট্রলারটি ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়ার সময় জেলেরা আটক করে।

এ ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার শঙ্কায় তিনি এ এলাকায় আসা কমিয়ে দিয়েছেন।ভুক্তভোগী মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন,আগে আমরা এখান থেকে নিয়মিত মালামাল নিতে আসতাম।নিরাপত্তার কোনো সমস্যা ছিল না।সম্প্রতি একের পর এক চুরির ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত।নৌপথে পণ্য পরিবহনে খরচ কম হওয়ায় দোকান মালিকরা সাশ্রয়ের জন্য এ পথে পণ্য পরিবহন করতেন। চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন সড়কপথে পণ্য পরিবহন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন,তেতৈতলা পুরনো ফেরিঘাট এলাকাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত চক্র গড়ে উঠেছে।তাদের কাজ নদী দিয়ে চলাচলকারী মালবাহী নৌযানে লুটতরাজ চালানো।এদেরে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।স্থানীয় বাসিন্দা রবি বেগম জানানা,গত সেপ্টেম্বর মাসে মোহাম্মদ আলী ও হাবিব উল্লাহ তার বাসায় একটি ঘর ভাড়া নেন।মালামালসহ ট্রলার চুরি করে ট্রলারের শ্রমিকদের জিম্মি করে নিয়ে এসে তার বাড়িতে আটকে রাখেন।প্রথমে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি, পরে পুলিশের কাছে সব ঘটনা শুনে তিনি অবাক হয়েছেন। এ দিকে নদী থেকে মালামালসহ ট্রলার ডাকাতি করতে গিয়ে আটক হওয়া ডাকাত দলের ছয় সদস্যের একজনের সাথে কথা হলে তিনি জানান,তারা কেউ এই এলাকা চেনেন না। সোনারগাঁও উপজেলার হাজী ইকবাল তাদের ভাড়া করে এনেছেন ডাকাতি করার জন্য। তারা আটক হওয়ার পর তিনিই তাদের জামিনের ব্যবস্থা করেন। এ দিকে এ বিষয়ে চক্রের প্রধান হাজী ইকবালের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ডকইয়ার্ডে যাওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।সেখানে কর্মরতরা জানান,বেশ কিছু দিন ধরে তিনি এখানে আসছেন না।তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অসংখ্য বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।চক্রের সদস্য মোহাম্মদ আলী ও হাবিব উল্লাহর বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে কয়েক দিন গেলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেশীরা জানান ট্রলার শ্রমিকদের জিম্মি করে মালামাল চুরির ঘটনায় তাদের নাম আসার পর পর তারা গা ঢাকা দিয়েছেন।বিষয়টি সম্পর্কে নৌপুলিশের নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন,আলী ও হাবিব উল্লাহসহ এসব ঘটনার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম আমরা পেয়েছি।তদন্তের স্বার্থে সেগুলো প্রকাশ করা যাচ্ছে না। স্থানীয় লোকসহ বেশ কয়েকজন এসবের সাথে জড়িত বলে আমরা প্রমাণ পেয়েছি। শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এই ক্যাটাগরি আরও পড়ুন

তারিখ অনুসারে পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
এক ক্লিকে বিভাগের খবর