ঢাকাThursday , 24 September 2026
  • অন্যান্য
  1. অর্থনীতি
  2. গণমাধ্যম
  3. জাতীয়
  4. দেশ
  5. বিদেশ
  6. রাজনীতি
  7. শিক্ষা

জাতিসংঘে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Link Copied!

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করা বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ “সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলা” শীর্ষক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, সাগর তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুধু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।”

বাংলাদেশকে একটি সক্রিয় বদ্বীপ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “দেশের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সাগরে মিশেছে। দেশের সাধারণ মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

বিশ্বব্যাংকের এক পূর্বাভাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এর ফলে দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের বাসস্থান, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী ৪টি জরুরি পদক্ষেপের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন:

১. বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত ও ন্যায়সংগতভাবে কমিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

৩. উপকূলীয় দেশগুলোতে জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানো।

৪. বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।