ময়মনসিংহের ভালুকায় গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে মাটিতে ছিঁড়ে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে দুই বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার খারুয়ালী গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, খারুয়ালী গ্রামের আব্দুল আজিজ আকন্দের ছেলে সাহাব উদ্দিন আকন্দ (৬৫) এবং একই এলাকার মজিদ আকন্দের ছেলে ধনু আকন্দ (৬০)।
জানা যায়, সকালে মাঠের কৃষিজমিতে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান ধনু আকন্দ। এ সময় মাটিতে আগে থেকেই ছিঁড়ে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি সচল লাইনের তারে অসাবধানতাবশত জড়িয়ে পড়েন তিনি। দূর থেকে ভাইকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তাকে বাঁচাতে দ্রুত এগিয়ে আসেন চাচাতো ভাই শাহাবুদ্দিন আকন্দ। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও ওই বিদ্যুতের লাইনের সংস্পর্শে চলে আসেন। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। একসঙ্গে দুই বৃদ্ধ ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় শোকে স্তব্ধ নিহতের পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে ছিঁড়ে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন ধনু আকন্দ। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন চাচাতো ভাই শাহাবুদ্দিন আকন্দ। এ সময় তিনিও বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভালুকা মডেল থানার পুলিশ।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনাটি ঘটার আগেই লাইনের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার বিষয়টি স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও বিদ্যুৎ অফিস থেকে লাইনটি বন্ধ করা বা তার মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের এই চরম অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পরিবারের।
তবে অবহেলার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার নাসির উদ্দিন জানান, এলাকায় কোনো ধরনের ঝড়-তুফান কিংবা ওভারলোড ছিল না। এরপরও কীভাবে তার ছিঁড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। বিস্তারিত কারণ উদঘাটনের জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিবারের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

