ময়মনসিংহ হাইওয়ে পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বদলী বানিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ হাইওয়ে রিজিয়নের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে তার অধীনস্থ বিভিন্ন হাইওয়ে থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের বদলী বানিজ্যসহ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রের ভূয়া অভিযোগ সৃষ্টি করে বদলীসহ বিভিন্ন শাস্তির গ্রহনের হুমকি প্রদান করে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে অধিনস্থ কর্মরত পুলিশ সদস্যরা চরম আতঙ্কিত বলে জানা গেছে।
ভালুকার ভরাডোবা ও আশপাশের হাইওয়ে থানাগুলোতে কর্মরত একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসপি কাজী মোঃ সোয়াইব এর হয়ে এ ধরনের আর্থিক লেনদেন করেন তার ঘনিষ্ঠ পুলিশ সদস্য মোবারক হোসেন জনি ও এএসআই মনির। বিশেষ করে শিল্পঘন এলাকা ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে থানায় যোগদানের ক্ষেত্রে টাকা ছাড়া সুযোগ মেলে না। আর ওই থানায় যোগদানে কনস্টেবল ৫০হাজার এএসআই ৮০হাজার এসআই বা সার্জেন্ট ১লাখ এবং টি-আই ১থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে বর্তমানে ভরাডোবা থানায় চাহিদার চেয়ে অন্তত এক ডজন পুলিশ সদস্য অতিরিক্ত রয়েছেন।
পুলিশ সুপারের এসব অনিয়মের কথা ভুক্তভোগীদের মুখে মুখে, তবে তারা পরিচয় প্রকাশে ভীত-কারণ আবারও বদলি বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, গত ১৩ মে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের স্মারক নং ৪৪.০১.০০০০.১০৮.১৯.৪৮১.২১-১৮৭৬ এর মাধ্যমে ২৬ নম্বর ক্রমিক অনুসারে মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জনির বদলির আদেশ জারি করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত হাইওয়ে ময়মনসিংহ রিজিয়নের পুলিশ সুপার তাকে ছাড়পত্র না দিয়ে দায়িত্বে রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসপির কথিত ‘বানিজ্যিক স্বার্থ’ টিকিয়ে রাখতে জনিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এতে অনিয়মের অভিযোগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এছাড়াও জানা গেছে, মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জনি বর্তমানে হাইওয়ে রিজিয়ন ময়মনসিংহে কর্মরত থাকলেও প্রতিদিন তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার নিজ বাসা থেকে যাতায়াত করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার নামে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন বাস, নোহা ও প্রাইভেটকার চলাচল করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যে অভিযোগ তৈরি করা হয়। এরপর বদলি বা বিভাগীয় শাস্তির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। একজন কর্মকর্তা জানান,“আমি মাত্র এক মাসের মধ্যে আকস্মিক বদলির শিকার হই। পরে মোবারক হোসেন জনির মাধ্যমে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে আমি ১ লাখ টাকা দিলে আবারও আগের থানায় যোগদানের সুযোগ পাই।”
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কনস্টেবল মোবারক হোসেন জনি, নিজেকে গাজীপুর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ পরিচয় দেন। মোবারক হোসেন জনি ও এএসআই মনির দুজনই প্রতিবেদককে নিউজ না করতে বলেন এবং চা-নাস্তার প্রস্তাব দেন। এক পর্যায়ে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হলে প্রতিবেদককে মুঠোফোন হুমকি দেয়।
বদলী বানিজ্য, দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি কতোটুকু সত্য জানতে চাইলে, হাইওয়ে পুলিশ ময়মনসিংহ রিজিয়নের পুলিশ সুপার কাজী মোঃ সোয়াইব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং প্রতিবেদককে ম্যানেজ করতে উঠেপড়ে লাগেন।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, “অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ধরনের অনিয়ম পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তারা উচ্চপর্যায়ের দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

