ঢাকাTuesday , 23 September 2025
  1. অর্থনীতি
  2. গণমাধ্যম
  3. জাতীয়
  4. দেশ
  5. বিদেশ
  6. রাজনীতি
  7. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ খবর

ভালুকায় মুখের মেছতার কথা বলে; গর্ভপাতের ঔষধ খাওয়ান শাশুড়ি: গৃহবধূর মৃত্যু

Link Copied!

ময়মনসিংহের ভালুকায় মুখের মেছতা তোলার কথা বলে গর্ভপাতের ঔষধ খাওয়ানোর পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সুমি আক্তার (২৩) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু’র অভিযোগ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই হারেজ মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে, নিহতের স্বামী সিয়াম (২৭) ও শাশুড়ি খোদেজা খাতুন (৫৫)কে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে (২৩ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার বিকালে আদালতে সোপর্দ করেন এবং সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত সুমি আক্তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত (২০সেপ্টেম্বর) তার শাশুড়ি খোদেজা খাতুন তাকে মুখের মেছতা তোলার নামে কৌশলে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়ান। এরপর সুমি আক্তার গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, নিহতের স্বামী ও শাশুড়ি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অজ্ঞাতনামা নার্সের সহায়তায় সুমি আক্তারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভপাত ঘটায় এবং ডিএনসি করিয়ে স্বামীর বাড়ীতে নিয়ে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার সময় অসুস্থ সুমি আক্তারের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহত সুমি আক্তারের বড় ভাই হারেজ মিয়া বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে (২৩সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার দুপুরে ভালুকা মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে নিহতের স্বামী সিয়াম (২৭) ও শাশুড়ি খোদেজা খাতুন (৫৫)কে গ্রেফতার করেন এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামিদেরকে আদালতে প্রেরণ করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে ৭দিন রিমান্ড চেয়েছেন।

মামলার বাদী হারেজ মিয়া জানান, গত চার বছর পূর্বে তার ছোট বোন নিহত সুমি আক্তারকে উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের পানিহাদী গ্রামের মো: মোস্তফা ও খুদেজা খাতুনের ছেলে সিয়াম এর সাথে বিয়ে হয় তাদের সংসার জীবনে আব্দুল্লা রোহান (৩) নামে একটি শিশু পুত্র সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকেই সুমি আক্তারের স্বামী ও শাশুড়ি পারিবারিক ও সাংসারিক বিভিন্ন কারণে-অকারণে মারধর করতেন এবং অত্যাচার করতেন। ঘটনার কিছু দিন আগে সুমি আক্তারের গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলে। সুমি আক্তার গর্ভের সন্তান নষ্ট না করতে চাইলে তার স্বামী ও শাশুড়ি কৌশলে মুখের মেছতার দাগ উঠানোর কথা বলিয়া গর্ভপাতের ঔষধ খাওয়ান। এর ফলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সুমির মৃত্যু হয়।

ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।