মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) থেকে শাস্তি পেলেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মির্জা মো. তারেক। নারী কেলেঙ্কারি ও পরবর্তী সহিংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে তিন সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে গুনতে হবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ২৫০তম সভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়—বহিষ্কারের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না তারেক। শৃঙ্খলা ভঙ্গের পুনরাবৃত্তি ঘটলে অপেক্ষা করছে স্থায়ী বহিষ্কার।
ঘটনার শুরু গত বছরের ১৯ মার্চ। সেদিন গণিত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে দেখা যায় ক্যাম্পাসের একটি মেসে। প্রতিবাদ জানালে ২০ মার্চ রাতে তিনি ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন কর্মী নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালান। এতে ভুক্তভোগী গুরুতর আহত হন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
অভিযোগ একাধিকবার জমা হলেও আগের প্রশাসন বিষয়টি এড়িয়ে যায়। তবে বর্তমান প্রশাসন অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর শাস্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
তারেকের রাজনৈতিক যাত্রাও কম আলোচনার জন্ম দেয়নি। ক্যাম্পাসে শুরুতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর হঠাৎ ছাত্রদলে যোগ দেন তিনি। সম্প্রতি গঠিত ছাত্রদলের কমিটিতে তার ভোটার নম্বর ছিল ৫১। এমনকি ৯ সেপ্টেম্বর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পরও ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে ছাত্রদলের প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিমত—দল বদল করলেও তারেকের দাপট কমেনি। বরং তিনি বারবার অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাই নারী কেলেঙ্কারি ও সহিংস ঘটনার জন্য শাস্তি দেওয়ায় তারা প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

