ময়মনসিংহের ভালুকায় এমরান হোসাইন (২২) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া নারিশ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এমরান হোসাইন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোড়বাড়িয়া এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে। এমরান এর মৃত্যু নিয়ে একেক জনের একেক রকম দাবী। তবে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মডেল থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমরানের খালাতো ভাই নাঈম হাসান জামিরদিয়া বাদশা কারখানার ২ নম্বর গেট এলাকার আব্দুর রহমান স্টোরে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। মঙ্গলবার সকালে নাঈম অটোচালিত ভ্যানে করে দোকানে দোকানে চাল ও আটা সরবরাহ করতে বের হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে খালাতো ভাই এমরানও যান। পরে নারিশ মোড় এলাকায় এমরান আহত হন। কীভাবে তিনি আহত হয়েছেন, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। নাঈমের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাস্তার পাশে কাতরাতে দেখে নাঈম তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আব্দুর রহমান স্টোরের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, সকালে নাঈম আটা নিয়ে নারিশ এলাকায় যাওয়ার সময় তাঁর খালাতো ভাই এমরানও সঙ্গে যান। নারিশ মোড়ে গেলে হঠাৎ এমরান ভ্যান থেকে পড়ে আহত হন। পরে নাঈম তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, এটি হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধে মৃত্যু হতে পারে।
অন্যদিকে নাঈমের বাবা রুবেল বলেন, রাস্তার পাশে এমরানকে কাতরাতে দেখে নাঈম দৌড়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, একটি ট্রাক এমরানকে চাপা দিয়েছে—এমন কথা তিনি শুনেছেন।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে এমরানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

